কচুয়ায় ৩০টি বিদ্যালয়ে ৩০জন কর্মচারীকে ব্যাপক অনিয়মের মধ্য দিয়ে নিয়োগে অভিযোগ

শওকত আলী॥চাঁদপুর জেলাধীন কচুয়া উপজেলার ৩৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগের জন্য সরকারী ভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সে ৩৬টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩০টি বিদ্যালয়ের নিয়োগ পদে পরীক্ষা গ্রহন করার ১ দিন পরই পরীক্ষায় চরম অনিয়ম, দুর্নীতির ও অনৈতিক সুবিধা নিয়ে চাকরি দেয়া হয়েছে দাবী করে ৭১ নং বাসাবাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রার্থী ঔ এলাকার আবুল বাসারের ছেলে মোহাম্মদ শামীম হোসেন নিয়োগ কমিটির সভাপতির কছে লিখিত অভিযোগে করেন। এছাড়া তিনি উক্ত নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়মের অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও দপ্তরী কাম প্রহরী নিয়োগ কমিটির সভাপতি নীলিমা আফরোজসহ ১০ জনকে বিবাদী করে গত ১ ফ্রেরুয়ারী বিজ্ঞ সিনিয়র জজ আদালত, চাঁদপুরে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা চলিত অবস্থায় থাকার পর ও নিয়োগ কমিটি আদালতকে অমান্য করে গোপনে ৩০টি বিদ্যালয়ে ৩০জন দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগ দিয়েছেন বলে গতকাল বুধবার আদালতের অভিযোগকারী জানান। নগদ টাকা গ্রহণ, ব্যাক্তিগত পছন্দের লোকজনকে অগ্রাধিকার, নীতিমালা অমান্য, মেধাবী ও বাচাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীকে চাকরি না দেয়ার অভিযোগ করেছে একাধিক প্রার্থী। নিয়োগ কমিটি ক্যাচমেন্ট এরিয়ার বাহিরের প্রার্থীকে নিয়োগ প্রদান করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, কচুয়া উপজেলা শিক্ষা অফিস গত ১৩ আগস্ট ২০১৭ ইং তারিখের উশিঅ/কচুয়া/চাঁদ/৮১৬নং স্মরক মূলে উপজেলার ৩৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সে মতে গত ৩০ জানুয়ারী ২০১৮ তারিখ সকাল ১০ টায় সময় উপজেলা দপ্তরী কাম প্রহরী নিয়োগ কমিটি ৩০টি বিদ্যালয়ের প্রার্থীদের চুড়ান্ত যাচাই বাচাই ও মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে প্যানেল প্রস্তুত করে, পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলিমা আফরোজ।
আদালতে করা মামলার কপি থেকে জানা যায়, ৭১ নং বাসাবাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রার্থী মোহাম্মদ শামীম হোসেন, পিতা আবুল বাসার লিখিত অভিযোগে বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারী নীতিমালা মানা হয়নি। নিয়োগ কমিটি ব্যাক্তিগত পছন্দের লোকজনকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট এরিয়ার প্রার্থীতে বাদ দিয়ে অন্য গ্রামের প্রার্থীকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে চাকরি দেয়া হয়েছে। এছাড়া তিনি উক্ত নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়মের অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও দপ্তরী কাম প্রহরী নিয়োগ কমিটির সভাপতি নীলিমা আফরোজসহ ১০জনকে বিবাদী করে গত ১ ফ্রেরুয়ারী ২০১৮ তারিখে বিজ্ঞ সিনিয়র জজ আদালত, চাঁদপুরে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে বিবাদীগণ যাহাতে বাদীকে ব্যতিত অন্য কাউকে বেআইনীভাবে উক্ত পদে নিয়োগ না দিতে পারে তৎমর্মে একটি নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারি করেন। এ বিষয়ে অভিযোগকারী জানান, পরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি গোপনে নিয়োগ কমিটি ক্যাচমেন্ট এরিয়ার বাহিরের প্রার্থীকে নিয়োগ প্রদান করে। যা”গতকাল বিদ্যালয়গুলো সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও নিয়োগ কমিটির সদস্য শাহ মো. ইকবাল মনসুর বলেন, আমরা নগদ টাকা কারো কাছ থেকে নেই নি। আর নিয়োগ চুড়ান্ত করেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলিমা আফরোজ।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও দপ্তরী নিয়োগ কমিটির সভাপতি নীলিমা আফরোজ বলেন, সরকারী নিয়ম মোতাবেক গত ৩০ জানুয়ারী পরীক্ষা নেওয়া হয় এবং ১৫ ফ্রেরুয়ারী তাদেরকে যথাযথ নিয়মে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কোর্টে মামলা হয়েছে,অনিয়মের ব্যাপার বলে। কোর্ট থেকে নিয়োগ পরীক্ষার পর নিয়োগ দেওয়া যাবে না এ ব্যাপারে কোন স্থিতিআদেশ আমাদেরকে দেওয়া হয়নি। কোর্ট থেকে কারন দর্শানো নৌটিশ দেওয়া হয়েছে রিপোটের জন্য। আমরা তার জবাব দিয়ে দিয়েছি। অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে হচেছ,আমরা নিয়োগ দিতে গিয়ে কোন অর্থ এ ব্যাপারে গ্রহন করা বা লেনদেন হয়নি। যা বলা হয়েছে,তা মিথ্যা। সম্পূর্ন নিয়ম তান্ত্রিক ভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।