কচুয়ায় সহকারী শিক্ষক পদে চাকুরি দেয়ার নাম করে প্রতারণা

images
মিজান লিটন–
কচুয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালযে সহকারী শিক্ষক পদে চাকুরি দেয়ার নাম করে প্রায় ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার পাড়াগাঁও গ্রামের অধিবাসী মেজবাহ উদ্দিন রতন ও তার স্ত্রী নাজমা আক্তারের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, শাহরাস্তি উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের শহীদ উল্যার পুত্র সজিব, একই গ্রামের আনোয়ার হোসেনের পুত্র তুহিন ও মৃত আমান উল্যাহর মেয়ে ফাতেমা আক্তারকে সহকারী শিক্ষক পদে চাকুরি দেয়ার কথা বলে কচুয়ার পাড়াগাঁও গ্রামের মৃত হাজী আব্দুল মালেকের পুত্র মেজবাহ উদ্দিন রতন ও তার স্ত্রী সুবিদপুর সরকারি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নাজমা আক্তার প্রায় ৪ বছর পূর্বে ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে তাদের চাকুরি দিতে না পারায় এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে বেশ কয়েকবার শালিস বৈঠক হয় । শালিস বৈঠকে প্রতারক মেজবাহ উদ্দিন রতন ক্ষতিগ্রস্থদের কাছ থেকে নগদ ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা আদায়ের সত্যতা স্বীকার করেন এবং ওই সময় ৫০ হাজার টাকা তাদের ফেরৎ দেন। বাকী ২ লাখ ২০ হাজার টাকা দেই-দিচ্ছি বলে টালবাহানা শুরু করে। এ নিয়ে সবশেষ গত ৩০ সেপ্টেম্বর সোমবার মেজবাহ উদ্দিন রতন ভুক্তভোগীদের বাকী টাকা ফেরৎ দেয়ার কথা থাকলেও তাদের টাকা ফেরৎ না দিয়ে মোবাইল বন্ধ করে গাঁ ডাকা দেয়। পরে নিরূপায় হয়ে ভুক্তভোগী সজিব ও তুহিন স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
জানা যায়, মেজবাহ উদ্দিন রতন নিজেকে স্থানীয় সাংসদ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের আপন ভাগিনা পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীদের চাকুরি দেয়ার নাম করে শাহরাস্তির বিজয়পুর এলাকার হিরন নামে এক ব্যক্তির পরিচয় সূত্রে তাদের কাছ থেকে নগদ অর্থ হাতিয়ে নেয়। এলাকাবাসী জানিয়েছে, প্রতারক মেজবাহ উদ্দিন রতন নিজেকে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা পরিচয় দিয়ে কচুয়া-শাহরাস্তিসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষ চাকুরির দেয়ার নাম করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
এব্যাপারে কচুয়ার ১১ নং গোহট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমির হোসেন জানান, মেজবাহ উদ্দিন রতন ও তার স্ত্রী নাজমা আক্তার কর্তৃক শাহরাস্তির ৩ ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেয়ার বিষয়টি শুনেছি এবং গত সোমবার তাদের টাকা ফেরৎ দেয়ার কথা ছিলো।
স্থানীয় ২ নং ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, মেজবাহ উদ্দিন তাদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার কথাটি সত্য, তবে গত সোমবার তাদের টাকা ফেরৎ দেয়ার কথা ছিলো। কিন্তু সে টাকা ফেরৎ না দিয়ে রতন ওতার স্ত্রী নাজমা বেগম টালবাহানা করছে।
এদিকে অভিযুক্ত মেজবাহ উদ্দিন রতনের মোবাইল ফোনে তার বক্তব্য জানতে বার বার চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিব করেননি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কচুয়া থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।