কচুয়ায় শাহ নেয়ামত শাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের অনিয়মই যেন নিয়মে পরিনত


রফিকুল ইসলাম বাবু ।

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার প্রানকেন্দ্রে মরহুম এডভোকেট আবদুল আউয়াল ১৯৮৫ সালে শাহ নেয়ামত শাহ উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম বিভিন্ন অনিয়মের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। সহকারি প্রধান শিক্ষক কাজী আবদুল বাতেন সরকার ২০০৬ ইং সাল থেকে বিনা ছুটিতে ইটালীতে অবস্থান করছেন। সহকারি শিক্ষক ফারুক আহমেদ ৪ বছর যাবত বিনা অনুমতিতে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত আছেন। নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিনা নোটিশে অনুপস্থিত থাকার কারনে ঐ সকল পদগুলো শূন্য হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তা মানছেন না। বিগত কমিটি উক্ত এমপিওভূক্ত ২টি শিক্ষকের পদ শূন্য ঘোষনা করেন এবং ঐ কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক শিক্ষক নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলেও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মফিজুল ইসলাম অজ্ঞাত কারনে উক্ত পদগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ স্থগিত রাখেন। এমনকি বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ঐ কমিটি বাতিল করে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে এডহক কমিটি গঠন করেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মফিজুল ইসলাম বলেন, ২০০৯ সাল থেকে উক্ত প্রতিষ্ঠানটিতে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। রেজুলেশন খাতাটি দেখতে চাইলে তিনি তা (জুন-২০১৭ সালে নির্বাচিত) বর্তমান সভাপতি নাজমুল আলম স্বপন এর কাছে আছে বলে জানান। অথচ রেজুলেশন খাতা সদস্য সচিবের কাছেই থাকার কথা। এসএসসি ফরম পুরনে অনেক শিক্ষার্থীকে বিনা টাকায় ফরম পুরন করছেন। তাই স্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি নিয়ে তা সমন্বয় করা হচ্ছে। তবে টেষ্ট পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ন ২শ’ ৩৩জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে গড়ে ১হাজার ৭শ’ টাকা করে নেয়া হয়েছে। বর্তমান কমিটির সদস্য মোস্তফা মুন্সী বলেন, আমরা বর্তমান কমিটির সবাই মিলে এই প্রতিষ্ঠানের অতীতের গৌরবময় ফলাফল পুনরুদ্ধার করতে সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এমপিওভূক্ত ৯জন শিক্ষকের মধ্যে ২জন অনুপস্থিত থাকলে পাঠদানে অনেক সমস্যা হয়। অতীত কমিটির বিচক্ষনতার অভাবেই বিদ্যালয়টিতে এই অনিয়ম হচ্ছে। আমরা অচিরেই এই সকল অনিয়ম দূর করতে সক্ষম হবো। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পদটিতে পূর্নাঙ্গ প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া করবো। নব-নির্বাচিত কমিটির সভাপতি নাজমুল আলম স্বপন বলেন, বিদ্যালটিতে অনেক অনিয়ম ছিল। এখন নতুন কমিটি অবকাঠামো নির্মানসহ ব্যাপক কাজ হাতে নিয়েছে। আগামী মিটিংএ দীর্ঘদিন যাবত এমপিও-ভূক্ত অনুপস্থিত ২জন শিক্ষকের পদ শূন্য করে নতুন শিক্ষক নিয়োগদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সাইদুর রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠান চলে সাধারনত কমিটির মাধ্যমে। ছুটি অনুমোদন দেন প্রধান শিক্ষক। আমি নতুন এসেছি, তাই খোজ নিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।