ওয়ারল্যাছ ফরিদগঞ্জ রোড এখন মরণ ফাঁদে পরিণত

নাজমুল হাসান বাঁধন ॥ চাঁদপুর শহরের ওয়ার ল্যাছ ফরিদগঞ্জ রোড এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। গত ক’ দিনের বৃষ্টির জলাবদ্ধতা আর খানাখন্দে ভরা সড়ক এখন যেন একটি মরণ ফাঁদ। প্রতিনিয়ত ঘটছে দূর্ঘটনা। দেখার কেউ নেই। অভিভাবকহীন এই সড়কের খোঁজ নিচ্ছেনা কেউ। বিগত কয়েক মাস ধরেই রাস্তার এই বেহাল দশা কারোই নজরে পড়ছে না। বিশেষ করে গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় যাত্রী ও ড্রাইভারদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, রাস্তার দু’পাশে ড্রেনেজ ব্যবস্থা চালু ছিলো। কিন্তু সড়ক বিভাগের অবহেলায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তার দু’পাশ বড় করলেও রাস্তা পিচ ঢালাই না দেয়ায় দু’পাশে মাটি ও বৃষ্টি এবং বড় বড় মালবাহী যানবাহনের কারণে রাস্তার দু’পাশে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়। এরই ফলস্বরূপ রাস্তার দু’পাশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। আর সেই গর্তে প্রতিদিন বিভিন্ন অটো, সিএনজি উল্টে পড়ে দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন যাত্রী ও ড্রাইভার। এই পর্যন্ত কয়েকটি বড় দূর্ঘটনায় লোকজন মারাত্মকভাবে আহত হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ নির্বিকার। কে যে এই রাস্তা সংস্কারের অভিভাবক! সেটা খুঁজে পাওয়াই এখন দায় হয়ে পড়েছে। সড়কের দুইপাশে মাছের আড়ৎ, প্রতিদিন রাত তিনটা থেকে সকাল ছয়টা পর্যন্ত প্রায় দুই থেকে তিনশত বেড়েল পানি রাস্তার উপড়ে পড়ে। মাছের সাথে থাকা পলি এবং ময়লা আর্বজনা দিয়ে পানির ড্রেন লাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে দুইশত ফুট রাস্তায় বার মাস পানি থাকে হাটু পর্যন্ত, রান্তায় লাল নিশানা দিয়ে বিপদ সংকেত দিয়ে রেখেছেন এলাকাবাসী। এই এলাকায় বসবাসকারী ব্যবসায়ী আলী হোসেন রানা জানায়, এই সড়কটি বর্তমানে আমাদের জন্য একটি অভিশাপ। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে শত শত মুসল্লি এই নোংরা পানি মারিয়ে নামাজ পড়তে যায়। শত শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করতে বিশাল অসুবিধার সম্মুখিন হয়। আর সবচেয়ে বড় কথা এই এলাকা দিয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলাসহ নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর জেলায় যাওয়ার প্রধান সড়ক এটি। যাওয়ার পথে হঠাৎ সিএনজি উল্টে কিংবা অটো, বাস উল্টে যাত্রীরা খাদে পড়ে মারাত্মক আহত হয়। গত কয়েকদিন আগেও এক ব্যক্তি চাঁদপুর জেলা নির্বাচন অফিস থেকে ষোলঘর অটোরিক্সায় যাওয়ার পথে এখানে আসলে অটো গর্তে পড়ে উল্টে তার হাত অটোর নিচে চলে যায়। পরবর্তীতে জরুরীভাবে তাঁকে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ৪ টি সেলাই দেয়া হয়। বর্তমানে তার হাত প্রায় অকেজো অবস্থায় আছে। এত কিছুর পরও কর্তৃপক্ষের কারো মাথা ব্যাথা নাই। এই রাস্তা দিয়ে হাটিয়ে চাঁদপুরের আমলাদের আনা দরকার। আর না হয় অটোতে করে নিয়ে যাওয়া দরকার যাতে তারা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি উপলদ্ধি করতে পারে। চাঁদপুর ওয়ারলেছের এই ফরিদগঞ্জ সড়ক সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থা চালু ও অবৈধ মাছের আড়ৎ বন্ধের জন্য কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় সাংসদ ডাঃ দীপু মনি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও মেয়র মহোদয়ের কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসীসহ ভুক্তভোগী জনগন।