এ বছর মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা গৌরবের ২২ বছর।চাঁদপুরের সর্বজনীন বিজয় উৎসব মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার বাকি মাত্র ৮ দিন

02_10051
নিজস্ব প্রতিনিধি==
আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে স্মৃতি বিজড়িত হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মাসব্যাপী এ মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা শুরু হচ্ছে।
এ বছর মেলায় ১৪৩টি বানিজ্যিক স্টল নির্মাণ করা হয়েছে। একটি প্রদর্শনী ও একটি আইন শৃঙ্খলা কক্ষ। স্মৃতিচারণ ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। ইতিমধ্যে মেলার নিরাপত্তার জন্যে দেয়া হয়েছে টিনের বাউন্ডারী। প্রতিদিন বিজয়মেলা মঞ্চে থাকবে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ, আবৃত্তি, নৃত্যানুষ্ঠান, সঙ্গীতানুষ্ঠান, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক বিতর্ক অনুষ্ঠান, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনসহ নানা অনুষ্ঠান। ইতিমধ্যে মাসব্যাপি বিজয় মেলার অনুষ্ঠানের জন্য চাঁদপুরের ও অন্যান্য উপজেলার সাংস্কৃতিক ও নাট্য সংগঠনগুলো মহড়া শুরু করেছে। এতে করে সাংস্কৃতিক ও নাট্য সংগঠনগুলো সরগরম ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। কোন সংগঠন কেমন অনুষ্ঠান দর্শকদের উপহার দিবে এ নিয়ে সাংস্কৃতিক ও নাট্য সংগঠনগুলোর মধ্যে চলছে প্রতিযোগিতা। চাঁদপুর শহরের নাট্য সংগঠনের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ গ্র“প থিয়েটার ফেডারেশানভুক্ত সংগঠন অনন্যা নাট্যগোষ্ঠী, বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠী, চাঁদপুর ড্রামা। এছাড়াও রয়েছে অনুপম নাট্যগোষ্ঠী, নবরূপ নাট্য সংস্থা, মেঘনা থিয়েটার, স্বরলিপি নাট্যদল, সবুজ বাংলা নাট্যগোষ্ঠী, অগ্নিতরুণ নাট্যগোষ্ঠী, অরূপ নাট্যগোষ্ঠী। সাংস্কৃতিক সংগঠনের মধ্যে রয়েছে চতুরঙ্গ সাংস্কৃতিক সংগঠন, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠি, সঙ্গীত নিকেতন, বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদ, সুরধ্বনি সঙ্গীত একাডেমী, চাঁদপুর ললিতকলা, স্বদেশ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, সপ্তক সঙ্গীত একাডেমী, বিবেকানন্দ যুবসংঘ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, মতলব নৃত্যাঞ্জলি, স্বপ্নকূড়ি সাংস্কৃতিক সংঘ, রক্সি মিউজিক্যাল গ্র“প, নৃত্যধারা, সপ্তসুর সঙ্গীত একাডেমী, হাজীগঞ্জ সারগাদেবী সঙ্গীত একাডেমী, বাবুরহাট সুরমালা সঙ্গীত একাডেমী, হরিজন শিল্পী গোষ্ঠী, কচুয়া ঝিলমিল সাংস্কৃতিক সংগঠন, ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম, মোহনবাঁশি স্মৃতি সংগঠন, অগ্নিবীণা সাংস্কৃতিক সংগঠন, রংধনু সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ প্রায় শতাধিক সংগঠন এতে অংশ নিচ্ছে। ইতিমধ্যে এসব সংগঠন তাদের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। বিজয়মেলা চলাকালে বাচ্চাদের বিনোদনের জন্য প্রতিবছরের ন্যায়ে স্থাপন করা হচ্ছে নাগরদোলা, পুতুল নাচ ও মেড়ি ঘোড়ার চক্কর। এ মেলায় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, খুলনা, সোনারগাঁও, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের ১৪৩টি দোকানী মেলামাঠে একমাস তাদের প্রসাদনীর পসরা সাজাবে। মেলা মাঠের তৈরিকরা স্টলসমূহ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। মাসব্যাপি বিজয় মেলার অর্থ সংগ্রহে কুপন পরিষদ ৭৫ হাজার কুপন বাজারে ছেড়েছে। এ কুপনের মাধ্যমে নগদ ২ লাখ টাকা দেয়া হবে। এখন শুধু ৮দিন অতিবাহিত হলেই শুরু হবে চাঁদপুরবাসীর প্রাণের মিলনমেলা মুক্তিযুদ্ধের এ বিজয় মেলা। ১ ডিসেম্বর চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মেলার কর্মকাণ্ডের আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন। ওই দিন রাতে চাঁদপুরের বিশিষ্ট শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে।