আজ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্বোধন করবেন শেখ হাসিনা

আজ আওয়ামী লীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। আজ শনিবার ১০তলা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আধুনিক নানা সুযোগ সুবিধা সম্বলিত ভবনটিতে মূল দলের পাশাপাশি সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের জন্যও পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। ভবনটির নির্মাণশৈলীতেও রয়েছে দক্ষতা-নান্দনিকতার ছাপ। এটি সহজেই পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে বলেই মনে করছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। গত তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের যে ভবনটি কেন্দ্রীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল, সেটি ভেঙ্গে নির্মিত হয়েছে ১০ তলা দৃষ্টিনন্দন ভবন।

আওয়ামী লীগ কেন্দ্র্রীয় নেতারা জানান, দলের নিজস্ব তহবিল থেকে থেকে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানা সময় ঠিকানা পাল্টেছে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের। ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা দলের সভানেত্রী হয়ে দেশে ফেরার পর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় হয় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে। আর যে মাটির ওপর ভবনটি ছিল, আট কাঠার সেই জমিটি ৯৯ বছরের জন্য ইজারা নিয়ে তৈরি হয়েছে ভবনটি। আধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত ভবনটির পুরোটাই থাকবে ওয়াইফাইয়ের আওতায়। আগামীকাল বঙ্গবন্ধু কন্যার হাতে ভবনের চাবি তুলে দেবেন আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। আর উদ্বোধন শেষে প্রেসিডিয়াম সদস্য, যুগ্ম সম্পাদকসহ অন্য নেতা ও সহযোগী সংগঠনগুলোর জায়গা নির্ধারণ করে দেবেন সভানেত্রী।

কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, উদ্বোধনের পর দলের সব সাংগঠনিক কার্যক্রম চলবে এই ভবন থেকে। আর ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয় থেকে দলের নির্বাচনী কার্যক্রম ও সিআরআইসহ দলের অন্যান্য সংস্থার গবেষণামূলক কাজ চলবে। ভবন নির্মাণের দায়িত্বে থাকা গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন জানান, ‘নির্বাচনের আগে দলের নেতা-কর্মীদের জন্য নতুন কার্যালয় একটি উপহার। নতুন করেই শুরু হবে পথচলা। আশা করছি নতুন ভবন আমাদের জন্য নতুন বিজয় বয়ে আনবে।’

সভানেত্রীর জন্য বুলেটপ্রুফ কক্ষ

ভবনটিতে নবমতলায় বসবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। তার ফ্লোরটি করা হয়েছে বুলেটপ্রুফ ডাবল গ্লাস দিয়ে। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সভানেত্রীর কক্ষের সঙ্গে রয়েছে বিশ্রামাগার ও নামাজের জায়গাও। সাধারণ সম্পাদকের কক্ষ রাখা হয়েছে অষ্টম তলায়। তার জন্যও রাখা হয়েছে সুপরিসর কক্ষ। ভবনের সামনের দেয়ালের দুইপাশ কাচ দিয়ে ঘেরা আর মাঝখানে সিরামিকের ইটের বন্ধন। সামনের দেয়ালজুড়ে দলের সাইনবোর্ডসহ মুক্তিযুদ্ধের রণধ্বনী ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’র পাশাপাশি ৭২ এর সংবিধানের চার মূলনীতি খোদাই করে লেখা আছে। ভবনটির প্রথম থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত প্রতিটি ফ্লোর চার হাজার ১০০ বর্গফুটের। চতুর্থতলা থেকে ওপরের সব কয়টি ফ্লোর তিন হাজার ১০০ বর্গফুটের।

কবে কোন ভবনে আওয়ামী লীগ কার্যালয়

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী লীগ যাত্রা শুরু পুরনো ঢাকার রোজ গার্ডেনে। অল্প কয়েকজন নেতার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত দলটির মানুষের মন জয় করতে খুব বেশি দেরি হয়নি। পাকিস্তান আমলে এই দলটি হয়ে উঠে এ দেশের মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। যত সময় গেছে দল আকারে হয়েছে বড়। আর সময়ের ব্যবধানে প্রয়োজনের তাগিদে দলটিকে কার্যালয় পরিবর্তন করতে হয়েছে বেশ কয়েকবার। রোজ গার্ডেন থেকে ১৯৫৩ সালেই ৯ কানকুন লেনে, ১৯৫৬ সালে পুরান ঢাকায় ৫৬ সিমসন রোডে, ১৯৬৪ সালে ৯১ নবাবপুর রোডে, এরপরে সদরঘাটের রূপমহল সিনেমা হলের গলিতে এবং পরে পুরানা পল্টনে কার্যালয় স্থানান্তরিত হয়ে দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম চলেছিল। এরপর যায় সার্কিট হাউস রোডে। সূত্র : দৈনিক ইত্তেফাক।

উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপনে চাঁদপুর জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।