অনিয়ম ও বকেয়া বিলের কারণে জেলার ৫টি সিএনজি স্টেশনের মধ্যে ২টি বন্ধ

প্রতিনিধি ঳  অনিয়ম ও বকেয়া বিলের কারণে জেলার ৫টি সিএনজি স্টেশনের মধ্যে বন্ধ রয়েছে ২টি। এর মধ্যে হাজীগঞ্জের মান্নান সিএনজি স্টেশন বন্ধের বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কেউ কিছু বলতে না পারলেও চাঁদপুর শহরের আমির হোসেন সিএনজি স্টেশনটি বিল বকেয়ার কারণে বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেম লিঃ মিটার খুলে নিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। দুটি স্টেশন বন্ধের কারণে ৫টি স্টেশন থেকে গ্যাস নেয়া সিএনজি স্কুটারগুলোকে ৩টি স্টেশনের উপর এখন নির্ভর। আর এ কারণে যাত্রীদের দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাঁদপুর জেলায় যে পাঁচটি সিএনজি স্টেশন রয়েছে সেগুলো হলো-শহরের বাসস্টান্ড এলাকার আমির হোসেন সিএনজি স্টেশন, শহরতলীর খলিশাডুলী এলাকার সেটকো সিএনজি স্টেশন, হাজীগঞ্জের ধেররাস্থ হান্নান সিএনজি স্টেশন, হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজারস্থ মান্নান সিএনজি স্টেশন ও শাহরাস্তির দোয়াভাঙ্গা এলাকার হান্নান সিএনজি স্টেশন। এই ৫টি স্টেশনের সবগুলোই চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে। এগুলো বাখরাবাদ গ্যাসের উপর নির্ভর করে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। এই স্টেশনগুলো থেকে চাঁদপুর জেলার সকল উপজেলাসহ তৎসংলগ্ন লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ ও রায়পুরের একাংশ এলাকার স্কুটারগুলো গ্যাস সংগ্রহ করে থাকে। এর মধ্যে হাজীগঞ্জ মান্নান সিএনজি স্টেশন আর চাঁদপুর শহরের আমির হোসেন সিএনজি স্টেশনটি অনিয়মের কারণে বন্ধ রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে আরো জানা গেছে, গত ক’মাস আগে হঠাৎ করে বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেম লিঃ-এর কুমিল্লা এরিয়া অফিস সিলগালা করে দেয় হাজীগঞ্জ মান্নান সিএনজি স্টেশনটিকে। আর সম্প্রতি বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেম লিঃ চাঁদপুর অফিস বন্ধ করে দেয় চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ডস্থ আমির হোসেন সিএনজি স্টেশনটিকে।

সম্প্রতি স্টেশন বন্ধের বিষয়ে খোঁজ নিতে হাজীগঞ্জের পশ্চিম বাজারস্থ মান্নান সিএনজি স্টেশনে গেলে দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে বাখরাবাদ কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি সিলগালা করেছে কুমিল্লাভিত্তিক বাখরাবাদ কার্যালয়।

এদিকে বন্ধ হওয়া আমির হোসেন সিএনজি স্টেশনের কয়েক মাসের বিল বকেয়ার কারণে মিটার খুলে নেয়া হয়েছে বলে বাখরাবাদ চাঁদপুর কার্যালয়ের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ চাঁদপুর কণ্ঠকে জানায়।

এদিকে ৫টি স্টেশনের মধ্যে ২টি স্টেশন বন্ধ থাকার কারণে জেলার হাজার হাজার সিএনজি স্কুটারকে গ্যাসের জন্যে ৩টি স্টেশনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এ কারণে একবার গ্যাসের জন্যে কোনো সিএনজি স্কুটার কোনো স্টেশনে গেলে তাকে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় সিরিয়াল দিয়ে বসে থাকতে হয়। আবার স্টেশনে গ্যাসের জন্যে অপেক্ষার অজুহাতে কিছু অসাধু স্কুটার চালক যাত্রীদের কাছ থেকে সুযোগ বুঝে বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

৫টির মধ্যে ২টি বন্ধ থাকায় অন্যগুলোর উপর ঠিক কী পরিমাণ চাপ পড়েছে এমন প্রশ্নে হাজীগঞ্জের বলাখাল ও দোয়াভাঙ্গা এলাকার হান্নান সিএনজি স্টেশনের স্বত্বাধিকারী আব্দুল হান্নান জানান, ঈদের কয়েকদিন স্টেশনে গ্যাসের জন্যে স্কুুটারের চাপ বেশি ছিলো, এখন স্বাভাবিক হয়ে গেছে।

বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেম লিমিটেড চাঁদপুর অফিসের ম্যানেজার মহিবুর রহমানের সাথে এ বিষয়ে কথা হলে মুঠোফোনে এই কর্মকর্তা  জানান, হাজীগঞ্জের মান্নান সিএনজি স্টেশনটি বন্ধ করেছে কুমিল্লা অফিস। তাদের মিটার টেস্টিংয়ে পাঠানো হয়েছে আর এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি কাজ করছে। জেলার এই শীর্ষ গ্যাস কর্মকর্তা আরো বলেন, শহরস্থ আমির হোসেন স্টেশনের ৪/৫ মাসের গ্যাস বিল বকেয়ার কারণে তাদের মিটার খুলে আনা হয়েছে।